চলমান প্রতিনিধি, সীতাকুন্ড :
সীতাকুন্ড উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম এক মাস বন্ধ থাকার পর ফের সচল হয়েছে। ইউপির চেয়ারম্যানদের রিট পিটিশনের রায় আগামী ৮ সপ্তাহের জন্য আদালত স্থগিত করেছেন। ফলে উপজেলার জনসাধারণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ২/৩ দিন থেকে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম আবারও শুরু হয়।
গত ২৩ জুন হাইকোর্টের রিট পিটিশনের নির্দেশনা মোতাবেক সাতটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা দায়িত্ব পালনের বৈধতা ফিরে পেলেও চেয়ারম্যানদের ইউনিয়ন পরিষদে অনুপস্থিতির থাকার কারণে এক মাসেরও অধিক সময় প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে এসব ইউনিয়নে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছে।
উল্লেখ, বিগত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ ও ১টি পৌরসভার মেয়র আত্মগোপনে চলে যায। আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ৩৩, ১০১ ও ১০২ ধারায় সীতাকুন্ড উপজেলার সৈয়দপুর, মুরাদপুর, বাড়বকুন্ড, বাঁশবাড়িয়া ও কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সোনাইছড়ি, ভাটিয়ারী ও সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে প্রদান করা হয়।
উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে গতবছরের ১৯ সেপ্টেম্বর ৭ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করেন। সীতাকুন্ড উপজেলার ৯ ইউনিয়ন, তারমধ্যে ৯ নং ভাটিয়ারী এবং ২নং বারৈয়ারঢালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিট পিটিশন করা থেকে বিরত থাকেন। ৭ ইউপি চেয়ারম্যানের রিট পিটিশন দায়ের পর হাইকোর্ট বিভাগ ৭ ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদান সংক্রান্ত আদেশের কার্যকারিতা পরবর্তী ৬ (ছয়) মাসের জন্য স্থগিত রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। এদিকে এ নির্দেশের পরও কোন চেয়ারম্যান পরিষদে যোগদান না করায় ইউনিয়ন পরিষদগুলো সম্পূর্ন অকার্যকর হয়ে পড়ে। এতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। এ জনদুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে সীতাকুন্ডে বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসনকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এরপর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের উচ্চ আদালতের রিট পিটিশনের আদেশ আগামী আট মাসের জন্য আদালত স্থগিত করেছেন। ফলে ১০ আগস্ট থেকে সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম আবারও শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফখরুল ইসলাম।





Comments are closed.