চলমান প্রতিনিধি : সীতাকুণ্ড ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ, আমেরিকাপ্রবাসী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংগঠক ড. কাজী নাসির উদ্দীন গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ভেনচুরা শহরে ইন্তেকাল করেন।(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৪ বছর।
কুমিল্লা নিবাসী কাজী নাসির উদ্দীন (১৯৪২-২০২৫) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৪ সালে বাঙাল ভাষা ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।১৯৬৮ সালে তিনি সীতাকুণ্ড কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। সাত মাস অধ্যক্ষ থাকাকালীন তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও আন্তরিকতার সহিত এই দায়িত্ব পালন করেন।এর পর হাটহাজারী কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগ দেন। হাটহাজারী কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ ড. আবদুল করিম তাঁর লেখা ‘হাটহাজারী কলেজ প্রতিষ্ঠার কথা’ প্রবন্ধে কলেজপ্রতিষ্ঠায় অবদানরাখা উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের কথা বলতে গিয়ে লিখছেন, “প্রথমে যাঁর নাম উল্লেখ করব, তাঁর নাম কাজী নাসির-উদ-দিন।বাড়ী কুমিল্লায়।আমি তাঁকে বুজিয়ে সুজিয়ে হাটহাজারী কলেজে নিয়ে আসি।তিনি সীতাকুণ্ড কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন। তখন কলেজের প্রাথমিক যুগ।আমরা ঠিকমত বেতনও দিতে পারিনি।তিনি অনেক কষ্টে তাঁর সহকর্মী শিক্ষকদের নিয়ে কলেজ চালু রাখেন।
১৯৭৬ সালে জনাব নাসির উদ্দীন হাটহাজারী কলেজ ছেড়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে তিনি উচ্চশিক্ষার্থে মার্কিন যুক্তিরাষ্ট্রে গমন করেন।১৯৮১ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া থেকে তুলনামূলক সাহিত্যে এমএ এবং ১৯৮৫ সালে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
তিনি ক্যালিফোর্নিয়া শহরে বাস করতেন।পার্শ্ববর্তী অক্সনার্ড শহরে আইটিটি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যাপনা করতেন।কাজী নাসির উদ্দীনের স্ত্রী তাহমিনা উদ্দীন ভেন্টুরা কাউন্টির সোস্যাল সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্টে সুপারভািজার পদে চাকুরিরত।তাঁর বড় কন্যা লুসিনা উদ্দীন ফ্লোরিডার ইউনিভার্সি অব মায়ামিতে অধ্যাপনা করেন।দ্বিতীয় কন্যা পলিনা ক্যালিফোর্নিয়ার স্ক্রিপ্ট হসপিটালে কারডিওলজিস্ট হিসেবে কর্মরত।
সীতাকুণ্ড ডিগ্রী কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বিদেহ আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন।






Comments are closed.