চলমান প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড :
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে। আমাদের অভিযান সফল হয়েছে। অভিযানে কয়েকজনকে আটক করার পাশাপাশি কিছু অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। আজ
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর দুইটার দিকে জঙ্গল ছলিমপুরে যাওয়ার ছিন্নমূল মুখে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিআইজি বলেন, অভিযানের পর এলাকায় স্থায়ীভাবে দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। এখানে বাংলাদেশ পুলিশের একটি ক্যাম্প এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের একটি ক্যাম্প চালু থাকবে। যাতে ভবিষ্যতে এ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা যায়।
তিনি বলেন, অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে আটক করার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এখনো বিভিন্ন ইউনিট পুরোপুরি রিপোর্ট না দেওয়ায় চূড়ান্ত সংখ্যা বলা যাচ্ছে না।
আহসান হাবীব পলাশ আরও বলেন, প্রায় ২০০০ সাল থেকে একটি চক্র সরকারি নিয়মকানুন উপেক্ষা করে জঙ্গল সলিমপুরে অবৈধভাবে জমির কাগজ তৈরি, জমি দখল ও হস্তান্তরের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। পরিস্থিতি এমন ছিল, সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এলাকায় প্রবেশ করতে ভয় পেত।
এর আগে চারবার এই এলাকায় অভিযান চালানোর চেষ্টা করা হলেও সফল হওয়া যায়নি। এবার পঞ্চমবারের মতো অভিযান চালিয়ে যৌথবাহিনী সফল হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযানে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি ও জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরা অংশ নেন। সম্মিলিত এই অভিযানের মাধ্যমে এলাকায় রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে।
এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয় র্যাব। সে সময় সন্ত্রাসীরা র্যাবের গাড়ি ভাঙচুর করে, গুলি চালায় এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। ওই হামলায় র্যাব-৭-এর উপ-সহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন এবং আরও তিন জন সদস্য গুরুতর আহত হন।’
এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করে র্যাব। এতে প্রধান আসামি করা হয় মোহাম্মদ ইয়াসিনকে। মামলায় ইয়াসিন, নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাত আসামি করা হয় ২০০ জনকে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, র্যাব সদস্যরা আসামি ধরতে গেলে তাদের ওপর সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াসিনের নির্দেশে রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। ছিনিয়ে নেওয়া হয় আটক এক আসামিকে। চার র্যাব সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যান আসামিরা। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।
আজ সকালে যৌথবাহিনীর সদস্যরা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে জঙ্গল সলিমপুরের ভেতরে তল্লাশি শুরু করেছে। বিশাল এই বাহিনীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে।
প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর পাহাড়ি এলাকাজুড়ে জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এলাকাটি অপরাধীদের কাছে ‘নিরাপদ স্বর্গরাজ্য’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমানে এখানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বাড়িতে অন্তত দেড় লাখ মানুষের বসবাস, যাদের অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে বসতি গড়েছেন।
জঙ্গল সলিমপুরে এখনও পাহাড় কেটে চলছে প্লট-বাণিজ্য। আর এই বাণিজ্য ও দখল টিকিয়ে রাখতে এলাকাটিতে গড়ে তোলা হয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী। এলাকাটিতে সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারায় থাকে এসব সন্ত্রাসী।

সীতাকুণ্ড জঙ্গল সলিমপুর এখন প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে: ডিআইজি
More from চলমানMore posts in চলমান »
- চট্টলা এক্সপ্রেসের দুই বগি পুড়ে গেছে, তদন্ত কমিটি গঠন
- সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল
- সীতাকুণ্ডে যুবদল নেতা রোকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
- ১৫ মার্চের মধ্যে ঈদ বোনাস প্রদানের দাবি: সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা শ্রমিকদের সমাবেশ ও মানববন্ধন
- সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার, ২২ জন আটক





Comments are closed.