Press "Enter" to skip to content

সীতাকুণ্ডে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি :
সীতাকুণ্ড সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে ফুট ওভারব্রীজ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্টিত হয়। আজ ১৩ অক্টোবর, সোমবার দুপুর ১২টায় কলেজের সন্মুখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, সীতাকুণ্ড শাখার আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা এক কণ্ঠে দাবি তুলেছেন —সড়ক নয় মৃত্যুর ফাঁদ, চাই ফুটওভার ব্রিজের সাধ!
মানববন্ধন চলাকালে সংক্ষিপ্ত এক সভায় সীতাকুণ্ড টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জহুরুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে আমাদের এক শিক্ষক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এর আগেও এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিল। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে ব্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পার হয়ে স্কুলে আসতে হয়—যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অতীতে অনেক সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠন এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন কিন্তু দুঃখজনকভাবে প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। আমি আশা করি এবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং দ্রুত একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করবে।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও মানববন্ধনের অন্যতম উদ্যোগতা মো. আরশাদ আমিন আকিব বলেন,আমরা ২০২৩ সাল থেকেই এই বিষয়ে আবেদন করে আসছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী এই ব্যস্ত মহাসড়ক পার হয় — যেখানে দ্রুতগামী যানবাহনের কারণে তাদের জীবন সবসময় ঝুঁকির মধ্যে থাকে। কিছুদিন আগে আমাদের প্রিয় শিক্ষক দিদারুল আলম স্যার রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা যান। এর আগেও আমাদের এক সহপাঠী নিহত হয়েছে। অথচ এতগুলো প্রাণহানির পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। আমরা বারবার আবেদন করেছি, চিঠি দিয়েছি, এমনকি সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে—কিন্তু প্রতিবারই শুধু আশ্বাস পেয়েছি, কাজের অগ্রগতি হয়নি।আজ আমরা প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা একসাথে মানবিক দাবিতে দাঁড়িয়েছি। এটা কোনো প্রতিবাদ নয়, এটা আমাদের বাঁচার দাবি। আমরা চাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই স্থানে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করে।

বর্তমান শিক্ষার্থী সিফাত উল ইসলাম তাহসিন বলেন, আমাদের অভিভাবকরা খুব চিন্তায় থাকেন। স্যারকে হারানোর পর আমরা সবাই ভয় নিয়ে রাস্তা পার হই। আমরা চাই না আমাদের বন্ধু, ভাই-বোন বা শিক্ষক কেউ আর দুর্ঘটনার শিকার হোক।
বর্তমান শিক্ষার্থী মীর মোহাম্মদ মাহদী বলেন,
ফুটওভার ব্রিজ এখন সময়ের দাবি। আর কোনো মৃত্যু নয় — প্রশাসনকে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা আর ‘সরি’ শুনতে চাই না, আমরা চাই পদক্ষেপ।
বর্তমান শিক্ষার্থী জাগ্রোতা রায় মনোন বলেন, এখানে সপ্তাহে গড়ে দুইটি দুর্ঘটনা ঘটে। আমাদের প্রতিষ্ঠানের সামনেই ইউ-টার্ন রাখা হয়েছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। যতদিন ফুটওভার ব্রিজ না হবে, ততদিন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগব।
বর্তমান শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আখন মুনাম বলেন, আমাদের সিনিয়র ভাইরা অনেকবার আবেদন করেছেন, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। কিছুদিন আগে আমাদের সহপাঠীকে সিএনজি ধাক্কা দেয়, তার পা ভেঙে যায়। আমরা চাই এই রাস্তায় আর কেউ আহত বা নিহত না হোক।
নিরাপদ সড়ক আন্দোলন (নিসআ) সীতাকুণ্ড উপজেলা আহবায়ক সায়েম সানি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই ব্যস্ত মহাসড়ক পার হয়—যা তাদের জীবনের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকির কারণ। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সীতাকুণ্ড সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। আমরা সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন, হাইওয়ে পুলিশ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (RHD) এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানাই— যেন অতি দ্রুত এই স্থানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়।
অতীতে অনেক সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠন এই দাবিতে সংবাদ প্রকাশ করেছেন, কিন্তু এখনো কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশাসন যদি এবারও নিরব থাকে, তাহলে আমরা আরও বৃহৎ কর্মসূচি ঘোষণা করব। আমাদের একটাই দাবি— নিরাপদ সড়ক চাই, শিক্ষার্থীদের জীবন বাঁচাতে চাই। ফুটওভার ব্রিজ চাই এখনই!

শেয়ার করুন-
More from চলমানMore posts in চলমান »

Comments are closed.

Mission News Theme by Compete Themes.