রবিন ঘোষ :
ফেইসবুকে দেখে বুঝলাম সারা দেশের ন্যায় সীতাকুণ্ডেও বেশ আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন।
এত আনন্দের মাঝে সীতাকুণ্ডের সাংস্কৃতিক জগত কি শিল্পী মঈনুদ্দিন রাজনকে মিস করছে?
একসময় এই দিনে উপজেলা পরিষদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য রাজন অফিস ছুটি নিয়ে রিহার্সাল করতে সীতাকুণ্ডে আসতো, বন্ধুদের সাথে হাই স্কুল মাঠে বা অন্য কোন প্রোগ্রামে না গিয়ে উপজেলায় শিল্পী ও সংগঠকদের সাথে সময় দিত। অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় একটা মগ বা তোয়ালে নিয়ে আসতো। এর বেশি সম্মান পাওয়ার যোগ্য হলেও তার চাহিদা খুব কম ছিল। যে যেখানে ডেকেছে, গান গাইতে চলে গেছে। কোন ডিমান্ড ছিল না। সবার সাথে হাসি ঠাট্টায় সময় পার করেই সে খুশি থাকতো।
অনেক সময় আবেগী হয়ে বলতো এত প্রোগ্রাম করে কি লাভ পাই? যারা তোষামোদী করে, যাদের জন্য সুপারিশ করার লোক আছে, তারাই অতি সম্মানিত।
বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রোগ্রামে আমরা একসাথে কাজ করতাম, সময় দিতাম, রাজন কি কি গান গাইবে তা ঠিক করতাম। তাই আমার সাথে এসব আবেগ শেয়ার করতো। আমি ওকে ক্ষেপাতাম। বন্ধুরাও ওকে অনেক কথা বলতো। কিন্তু সে ছিল সরলমনা, চাহিদাহীন। ডাক আসলেই ছুটে যেতো।
প্রিয় রাজন লড়াই করছে এভারকেয়ার হসপিটালের আইসিইউতে। ১ মাস আগেও বলেছিল আমাকে তোরা বাঁচা। যদি ক্ষমতা থাকতো, রাজনকে সুস্থ করে আবার সেই পুরোনো আড্ডায় গান গাওয়াতাম, প্রাণ খুলে মজা করতাম। কিন্তু, আমরা অসহায়। একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই পারেন তাকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিতে।
সবাই রাজনের জন্য আশীর্বাদ ও দোয়া করবেন। সীতাকুণ্ডের সাংস্কৃতিক জগতে এধরণের নিঃস্বার্থ, স্বেচ্ছাসেবী শিল্পী ও সংগঠকের খুব বেশি প্রয়োজন।






Comments are closed.