চলমান প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড : সীতাকুণ্ডের বারৈয়ারঢালা সহস্রধারা ঝর্ণায় ভ্রমণে এসে জীবন প্রদীপ নিভে গেল তাহসিন আনোয়ারের। চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। ফলাফল ঘোষণার আগেই চলে গেলে সে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগল-প্রায় সরকারি উচ্চ পদে থাকা মা-বাবা।
মানুষ হয়ে জন্ম নিলে একদিন মৃত্যু হবে, কিন্তু অনাকাঙ্খিত অকাল মৃত্যু মেনে নেওয়া খুবই খুবই কষ্টকর। যদি পিতার কাঁধে পুত্রের লাশ বহন করতে হয় তা যে কী ভয়াবহ কঠিন অবস্থা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জানেন। এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারবে কিনা জানা নেই কারো।
সীতাকুণ্ড বারৈয়ারঢালা পাহাড়ি এলাকায় সহস্রধারা ঝর্ণায় আজ শনিবার দুপুরে ভ্রমণে আসে তাহসিন। সঙ্গে ছিলো সাত বন্ধু। বন্ধুরা হলো, নাফিস , কফিল, ফাহিম, সুমিত, ইবরার ও আহাদ। তারা সবাই চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ছাত্র।
নিহত তাহসিন কেইপিজেট এর প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার কবিরের একমাত্র ছেলে। মা লুৎফর নাহার জীবন বীমা কর্পোরেশনের উপসচিব ও জিএম। বসবাস করেন চট্টগ্রাম ডিওএইচএস বাসাতে। তাদের বসতবাড়ি নোয়াখালি লক্ষিপুর থানার পাঁচপাড়া চন্দ্রগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা।
বন্ধুদের সামনে ঝর্ণাতে পড়ে তাহসিনের জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ার দৃশ্য কেউ মেনে নিতে পারছে না। সহস্রধারা ঝর্ণার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহযোগীতা না পাওয়ায় এই মর্মান্তিক মৃত্যুর দৃশ্য চোখের সামনে দেখতে হয়েছে বলে জানান বন্ধুরা। এই মৃত্যুর ভযাবহ দৃশ্য দেখে ভ্রমণে আসা বন্ধু আহাদ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়ে কাঁদছে অঝোর ধারায়। পরে পরিবার তাকে খোঁজে নেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে তাহসিনা আনোয়ার।
শনিবার দুপুরে তাহসিনা আনোয়ার তার সাত বন্ধু নিয়ে বারৈয়ারঢালা সহস্র ধারা ঝর্ণায় ভ্রমনে আসেন। মা বাবাকে না জানিয়ে বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে আসে তাহসিন।
তাহসিনের বন্ধু ফাহিম বলেন, পাহাড়ি এলাকায় ঘুরে যখন তারা ঝর্ণার পারে আসে তখন তাদের পায়ে ছিল কাঁদা-মাটি। এসময় সহস্র ধারার দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাদেরকে বলে ঝর্ণাতে নামলে তাদের কোন অসুবিধা হবে। পায়ে লাগা কাঁদা পরিষ্কার করতে পারবেন।
তাহাসিন যখন পায়ের কাঁদা ঝর্ণার পানিতে পরিষ্কার করছিল তখন পা পিছলে সে ঝর্ণার মধ্যে পড়ে যায়। আস্তে আন্তে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে থাকে সবাই। এক পর্যায়ে সে ঝর্ণার ৩০ ফুট নীচে পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় তাহসিনের বন্ধুরা সহস্রতারার কর্মকর্তাদের অনেক আকুতি মিনতি করলেও তারা কোন সহযোগিতায় এগিয়ে না আসায় সে আর ফিরে আসেনি। তৎক্ষণাৎ তারা যদি সহযোগিতায় এগিয়ে আসতো তাহলে তাহসিনের মৃত্যু হতো না বলে জানান বন্ধুরা।
সীতাকুন্ড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা মচিন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, খবর পেয়ে বিকেল ৬টার দিকে ঝর্ণার পানির ৩০ ফিট গভীর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লাশ থানা পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম বলেন, তাহসিনের মরদেহ পরিবারকে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এই মৃত্যুর পিছনে সহস্রধারা ঝর্ণার কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের কোন গাফেলতি থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সীতাকুন্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান ঝর্ণা থেকে মরদেহ উদ্ধার তথ্য নিশ্চিত করেন।





Comments are closed.